
ভালোবাসা

Ahnaf Tahmid Fahid
October 30, 2022
“এই যে শুনছেন? আপনাকেই বলছি। কি হয়েছে একটু বলবেন? কারো সাথে কথা নেই, দুদিন ধরে কিছু খাচ্ছেনও না। ব্যাপার কি?” উত্তরের আশায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলো মুনিয়া। অপরপক্ষ চুপ দেখে আবার বলল, “আচ্ছা আমার কী এমন দোষ যে আমি যখনই আসি তখনই আপনি অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে রাখেন? আমাকে পছন্দ হয় না? আমি কিন্তু আপনাকে খুব পছন্দ করি।” অপরপক্ষ তবুও নিরুত্তর। একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে মুনিয়া বলতে থাকলো, “ভেবেছিলাম আপনার শরীর খারাপ, তাই ডাক্তার ডেকেছিলাম। কিন্তু ডাক্তার বলল যে অসুখ আপনার মনে। কি করি বলুন তো? আপনার মন ভালো করা তো আমার দায়িত্ব। আপনার মন আমি ভালো করতে পারব। করব?” নাহ! মুনিয়ার দিকে সে ফিরেও তাকালো না। মুনিয়া ওর কাছে গিয়ে পিঠে আদর করে বলল, “কিন্তু সমস্যা কি জানেন? আপনার মন ভালো করতে গেলে আমার মন খারাপ হয়ে যাবে। তা কি আপনি চান?” কোন সারাশব্দ না পেয়ে মুনিয়ার মনটা এমনিতেই খারাপ হয়ে গেলো। তবুও সে বলল, “কিন্তু আপনার এ অবস্থা আমি মেনে নিতে পারছি না। তাই আপনার মন আমি ভালো করবো। ঠিক আছে? এখন তো কিছু বলুন।” অপরপক্ষ তবুও চুপ। আরেকটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে মুনিয়া বলল, “তবে আপনার মন ভালো করার পর কিন্তু আমাকে ভুললে চলবে না।” এই বলে মুনিয়া খাঁচা থেকে তার প্রিয় টিয়া পাখিটাকে বের করে ছেড়ে দিল। পাখিটা মুক্তির আনন্দে চিৎকার করতে করতে মুনিয়ার মাথার উপর দুপাক চক্কর খেয়ে বারান্দা দিয়ে বের হয়ে গেলো। যেন কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গেলো। মন খারাপ করে পাখিটার মুক্ত আকাশে বিহঙ্গ মেলে চলে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে লাগলো মুনিয়া। পিছন থেকে মুনিয়ার মা বললেন, “মন খারাপ করো না। যাকে ভালোবাসো সে যদি তোমার কারনেই কষ্টে থাকে, তবে সেই ভালবাসার মূল্য থাকে না।” #ছোটগল্প
Processing...