১ মাস ৩ দিন

১ মাস ৩ দিন

Author Photo

Baharin Siddika

November 18, 2022


                আজ ১৮ নভেম্বর, নভেম্বর যাই যাই করছে আর শীত আসি আসি করছে। ওই যে স্কুলে যাবার রাস্তার ওখানে নিশ্চয়ই এখন ছাতিম ফুলের কার্পেট হয়েছে আর উত্তরা বাতাসে জানালার পর্দা গুলো ফুলে ফেপে হেলেদুলে উড়ছে। আমি অনেক কথা বলি বুঝলেন, অনেক মানুষের সাথে কথা বলি। কথার মাঝে প্রায়ই মানুষ জানতে চায়, "আচ্ছা, আপনার প্রিয় ঋতু কোনটা?" এই প্রশ্নের উত্তর আমার এতোদিন জানা ছিলো না। তবে এখন বোধয় অল্প অল্প করে অনুভব করতে পারছি আমার প্রিয় ঋতুর। ইদানীং খুব আফসোস হয় যে শিউলি ফুল ফুটলো কিনা তা দেখার জন্য একটা ভো দৌড় দিয়ে বারান্দায় যেতে পারিনা। আর আমার এমারান্থাস লিলি,ওরা হয়তো এই শীতেই প্রথম ফুল দিতো! আপাতত সে হিসেবে যাচ্ছি না যে কি করতে পারছি না আর কি করতে পারতাম। তার চেয়ে বরং আপনাকে আমার এখনকার হালচাল বলি। এই যে আমি আমার বাসা,আমার রুম, আম্মুর আলমারি ভর্তি শাড়ি আর আমার ছাদভরা গাছ রেখে এ ধূলো বালির পৃথিবীতে এসে নিজের একটু ঠাঁই খুঁজতে চেষ্টা করছি তার কথা বলি। জানেন যেমন ভেবেছিলাম তেমন কিচ্ছু না। এ পৃথিবীতে দিন রাত সবই সমান। এই যে এখন আপনাকে চিঠি লিখছি,কটা বাজে জানেন? রাত ৪ঃ৩৩। অথচ আমার ঘুম আসছেনা। আসবে কেমন করে বলুন! রাত বিরাতেও যদি বাতি জ্বলতে থাকে আর গাড়ির শব্দ হয় দিনের মত তাহলে ঘুমানো কি যায়! এখানে না দেখা যায় আকাশ আর না দেখা যায় চাঁদ। অবশ্য আকাশ না দেখলে চাঁদ তারা আর কীই বা দেখবো। কিছু মনে করবেন না যেন আমি এমন বোকাদের মতো কথা বলি বলে। আচ্ছা আপনার বোকা মেয়ে ভালো লাগে?  হয়তো লাগে না,না? ও আচ্ছা, এরপর শুনুন। এখানে এসেছি গতমাসের অর্ধেক শেষ করে। তো গতমাস অব্দি আমি জানতাম আব্বু আম্মু আমাকে গড়পড়তা আদর করে। ছোটোবেলায় কুড়িয়ে পেয়েছে বলে খেপাতো তাই হয়তো। অথচ আমাকে অবাক করে দিয়ে তারা দুজন আমায় গাড়িতে তুলে দিয়ে অনেক কাঁদলো। কেন কাঁদলো সেটার ব্যাখ্যা আপনি পরের চিঠিতে আমাকে লিখে পাঠাবেন।নাহয় আমি রাগ হবো। জানেন, এখানে যাদের সাথে থাকি এরা কেউ আমার পূর্বপরিচিত না,আত্মীয় না। অথচ এদের সবাইকে আমার ভালোলাগে। ইদানীং এই ধূলো আর শব্দে ভরা পৃথিবীতে থাকা মানুষকে গুলোকে আমার সাইবেরিয়া হতে উড়ে আসা অতিথি পাখি মনে হয়। আমি নিজেও এই পাখিদের একজন। আমরা সবাই প্রতিকূলতা থেকে বাঁচতে আর খাদ্যের মজুত সন্ধানে উড়ে এসেছি। হয়তো এখনও অনেক অনেক পথ অতিক্রম করা বাকি। আপনিই সুখে আছেন, কোনো ঝই ঝামেলা নেই। বেশ চাকরি বাকরি করছেন, ঘুরছেন। মজার কথা শুনবেন?  আগে সারাক্ষণ ঘ্যানঘ্যান করতাম না যে আমার নিজের কিছু নেই,আমার নিজের কিছু নেই। এখন আমার নিজের অনেক কিছু আছে। ছোট্ট ভাতের পাতিল,সরা,চামচ,ঝাপি,কড়াই খুন্তি আরও এখন ভুলে যাওয়া দু তিনটা রান্না ঘরের জিনিস। ও হ্যা, আজ একটা ছুড়িও কিনে আনলাম। তবে ভয় নেই, রাগ হয়েও আপনাকে ছুড়িকাঘাতের কোনো সন্দেহ নেই। নিশ্চিন্ত হোন। কিন্তু এখন আর রান্না বান্না কিছু করতে মন চায় না। মনে হয় এটাই জগতের সবচেয়ে বিরক্তিকর কাজ। অবশ্য সবচেয়ে বিরক্তিকর কাজ হলো বাজার করা। আপনিতো মাঝেমধ্যে চাইলে একটু শাক তরকারি কিনে দিতে পারেন। পারেন না? কিন্তু তাতো দিবেন না। দিবেনই বা কেন! আমার শান্তি তো আবার আপনার সহ্য হয়না। নিজের কথা তো অনেক বললাম, এবার আপনি বলুন। কেমন আছেন? অবশ্য খারাপ থাকার কিছু দেখিনা তাও ভদ্রতা করে জিজ্ঞেস করলাম আরকি। আপনাকে অনেক দিন পরে আজ লিখছি। আপনিতো নিজ থেকে একটু লিখতে পারেন, অনিচ্ছা সত্ত্বেও, শুধুমাত্র আমাকে খুশি করার উদ্দেশ্যে তো লিখতে পারেন।  লিখবেন, কেমন। আমি খুশি হবো। মহামারীর মতোন আমার খুশিও ছড়িয়ে পরবে আমার সব কাজে। এটুকু অনুরোধ নিশ্চয়ই আমি করতে পারি। আচ্ছা এতবড় চিঠি দেখে হয়তো আপনার রাগ হবে তাই অল্পকথায় শেষ করছি। আজ একমাস তিনদিন হয় আমি আমার স্থান বদল করেছি আর আপনি একবিন্দু খোঁজ ও নেন নি। তবে আমি ভালো আছি। বলতে গেলে একরকম ছোটো খাটো সংসার পেতে ফেলেছি। তবে মাঝেমাঝে আমার মন খারাপ লাগে কারন আম্মু ছাড়া আমার ভালো লাগে না। মাথায় তেল দেবার সময় আম্মুর কথা বেশি মনে পরে। আর আপনিতো জানেন আম্মুর মাখা ভাত না খেলে আমার খাওয়ায় তৃপ্তি আসে না। এছাড়া সব ভালো চলছে। তবে একটা আবদার। আপনার সাথে দেখা করতে চাই। আমার খুব ইচ্ছে আপনাকে দিয়ে নিজের একটা ছবি আঁকিয়ে নেব। নিজে তো দেবেন না তাই চেয়েই নিচ্ছি। আপনি আসবেন?
            

Login to comment, like and bookmark this blog

Brainstormer