
মানুষের সঙ্গ এড়িয়ে গাছের কাছে যাওয়া শ্রেয়

Baharin Siddika
November 5, 2022
সেদিন ক্লাস শেষ করে নির্বাচিততে গিয়ে বই পত্র নাড়ছিলাম আর রাহাত ভাইয়ার সাথে টুকটাক গল্প করছিলাম। গল্পে গল্পে বললাম, "আমার মনে হয় আমি বাসায় না থাকলে আমার গাছগুলো মন খারাপ করে " তখন ভাইয়া চট করে একটা বই হাতে দিয়ে বললো, "এই বইটা পড়ে দেখো, তোমার ভালো লাগবে, হয়তো নিজের সাথে কিছু মিল ও পাবে।" আচ্ছা এবার বলি বইটার নাম পুষ্প,বৃক্ষ,বিহঙ্গ পুরাণ, লেখক হলেন আহমদ ছফা। সত্যি বলতে বইয়ের প্রচ্ছদ দেখে আমার খানিকটা অনিচ্ছাই হয়েছিলো। বইয়ের প্রচ্ছদ সুন্দর হলে আমার পড়ার আগ্রহ বেশি হয় যেমন সুন্দরী মেয়েদের প্রেমিক বেশি হয় তেমন আর কি। যাহোক বই পড়া শুরু করে আর থামতে পারিনি। বইয়ে বেশি কিছু নেই, নেই প্রেম,নেই রাজনীতি অথবা সমাজ বিশ্লেষণ। তবে এ বইয়ে যা আছে তা অনেকটা আমার মতো, উন্মুক্ত রহস্য।সবাই দেখতে পারে, জানে তবুও অজানা অদেখা।তবে আহমদ ছফা সেই রহস্যা ভেদ করে দেখেছিলেন পুষ্পের ফুঁটে ওঠা,বৃক্ষকে মানুষের বন্ধু হওয়া আবার দেখেছেন কাক,শালিকের প্রেম,পরিনয়,পরিবর্তন। মানুষ মূলত মন খারাপের সময় শান্ত থাকতে পারলে ওই সময়ে গভীর চিন্তা, উপলব্ধি করতে পারে ভীষণভাবে।এই যেমন লেখক তার ব্যস্ততা,পত্রিকা অফিস হারিয়ে বুঝেছিলেন নয়নতারা নিজ থেকে ঝড়ে না,মন খারাপে আদর দিতে গাছ ও কখনো কখনো শাখা নুইয়ে দিয়ে তার কোল প্রসারিত করে দেয়। বেগুন গাছে ফুল আসা যে জাদুর মতো চমকপ্রদ এটা হয়তো যে বেগুন চাষ করেনি অথবা গাছকে যে কখনো তার ঘামের এক বিন্দু দেয়নি সে জানেনা।পাখিরা যে ভীষণ আত্মাভিমানী এ কথাও অনেকের অজানা।সর্বোপরি এই বইটি মুহূর্তের জন্য জন্য হলেও আপনাকে উদ্বুদ্ধ করবে একটা গাছ লাগাতে, একটু আকাশে তাকিয়ে পাখি দেখতে কিংবা নির্জনে গাছের ছায়ায় বসতে।
Processing...