এই মেমসাহেবকে আমি হিংসা করি

এই মেমসাহেবকে আমি হিংসা করি

Author Photo

Baharin Siddika

November 2, 2022


                " প্রহর শেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্র মাস-
তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ।
এ সংসারে নিত্য খেলায়,প্রতিদিনের প্রাণের মেলায়
বাটে বাটে হাজার লোকের হাস্য-পরিহাস-
মাঝখানে তার তোমার চোখে আমার সর্বনাশ। "

কবিতার এ কটি লাইন প্রেমিক রিপোর্টার তার ইয়াং প্রফেসর প্রেমিকাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন।

বড় রাগ হয় আমার, রিপোর্টার কেন এ কবিতাই বললো, এ কবিতা না বললে হয়তো তার সর্বনাশ হতোনা।এই সর্বনাশা বই হলো আমার পড়া দ্বিতীয় বই। এক হিসেবে আমি বড় খারাপ মানুষ। বই এর নাম আর প্রচ্ছদ ভালো না লাগলে বই পড়তে মন চায়না আমার।তবে এ বইয়ের নামটাই তো কত মিষ্টি, আদরমাখা,"মেমসাহেব"। "মেমসাহেব" বইটি লিখে নিমাই ভট্টাচার্য যে কত মেয়ের মনে মেমসাহেব হবার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছেন তা আমার জানা নেই। নিরেট প্রেমের উপন্যাস। তবে প্রেম মানে শুধু প্রেমই নয়, এ বইয়ে আছে বাস্তবতা, আছে এক সমুদ্র চাপা কষ্ট। মূলত বইটি হলো একটি চিঠি। আর এ চিঠি রিপোর্টার বাচ্চু তার অতি প্রিয়ো দোলাবৌদিকে লিখেছিলেন। বাচ্চু নাম করা জার্নালিস্ট,থাকেন বিলাশবহুল সাজানো-গোছানো, টিপ-টপ বাড়িতে। কেউ কখনো তার স্ত্রী কে দেখেনি, তবে গল্প শুনে আমার মতই হয়তো কল্পনা করেছে। কোন এক অতিশয় বৃদ্ধা একটি লাল টুকটুকে শাড়ি পাঠিয়েছিলেন বাচ্চুকে আর চিরকুটে লিখেছেন, "তোমার বিদেশী মেমবউকে এটা আশীর্বাদ হিসেবে দিলাম।" আচ্ছা মেমসাহেব কী আসলেই বিদেশিনী ছিলেন?

মেমসাহেব হলো সেই আন্দোলন যুদ্ধের সময়ের এক শিক্ষিতা,স্বাবলম্বী নারী। পেশায় তিনি কলেজের শিক্ষিকা ।বইয়ে মেমসাহেব শব্দটি কতবার আছে গুনিনি।তবে তার রূপ আর ব্যক্তিসত্তার যে মোহময়ী বর্ণনা বইটিতে আছে তাতে আমিও হয়তো অবচেতন মনে মেমসাহেব হতে চেয়েছি। কিন্তু সবাই কি মেমসাহেব হতে পারে?

মেমসাহেব রিপোর্্টার কে ছেলেমানুষ থেকে একরকম পুরুষ করে তুলেছিলো।কোনো রকম জার্্নালিস্ট থেকে করে তুলেছিলো ভয়ংকর নামকরা ব্যক্তি।পড়িয়েছিলো বাংলা-ইংরেজির  সাহিত্য, রাজনীতি, কূটনীতির সমস্ত বই। প্রেম থেকে পরিনয় পর্যন্ত সব যখন সাজানো হলো তখন দুজন আকাশসম খুশি।বিয়ের জন্য মেমসাহেব এর বেনারসি শাড়ি আর রিপোর্টার এর ধুতি পাঞ্জাবি সব কেনা হলো।বিয়ের পর থাকবে বলে বাড়ি কেনা হলো, মেমসাহেব নিজ হাতে সাজালো তার ভবিষ্যৎ সংসারের প্রতিটি অংশ। তবুও রিপোর্টার এর মাথায় টোপর উঠলো না, মেমসাহেব এর লাল সিদূরে কপাল রাঙানো হলো না।অথচ রিপোর্টার এর সকল প্রতিবেশী জানেন মেমসাহেব সন্তান সম্ভবা তাই বাবার বাড়ি গিয়েছে। আচ্ছা,কি হলো মেমসাহেব এর?তারা কি বিয়ে করেনি?

উত্তর গুলো বই পড়ে জেনে নেয়ার অনুরোধ থাকলো। তবে পুরো বইটিকে এ বইয়ের শেষ পাতার টেনিসনের দুটো লাইন দিয়ে বোধয় ব্যাখ্যা করা যায়:
"Time marches on but memories stays.
Torturing silently the rest of our days."

[ বি.দ্র:আমার ধারনা বইটি লেখকের নিজের জীবনের একটি অংশ। নিজের ছাড়া অন্য কারোর জীবন-কল্পনা -কাহিনী এত হৃদয়স্পর্ষী হতে পারেনা লেখনী তে।আর আবেগপ্রবণ মানুষেরা বইটি পড়ার আগে বই শেষ করে একঘণ্টা কাঁদা এবং কয়েক রাত না ঘুমিয়ে এটা নিয়ে ভাবার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে বইটি পড়তে শুরু করবেন। ]
            

Login to comment, like and bookmark this blog

Brainstormer